অরাজকতার শাসন চলছে উত্তরপ্রদেশে। হাথরাসে পৈশাচিক ধর্ষণের পর নির্যাতিতা তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় সারা ভারতজুড়ে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ সরকার চাপের মুখে তিন সদস্য বিশিষ্ট সিট গঠন করে তদন্ত চালালেও, তাদের তদন্তে কোনমতেই সন্তুষ্ট নয় দেশবাসী। হাথরাসের পর বলরামপুরেও এ রকমই এক পৈশাচিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পরপর উত্তরপ্রদেশে এমন অন্ধকারময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার ফলে উত্তরপ্রদেশের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সকলেই। এমতাবস্থায় একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, হাথরাসে নিহত ওই তরুনীর বাড়িতে গিয়ে তরুনীর পরিবারের লোকজনকে রীতিমতো হুমকি দিচ্ছেন সেখানকার ডিএম। এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সারা দেশ জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সকলেই উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই ভূমিকা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন তুলেছেন। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের সম্মিলিত গর্জন।
এমনকি কোন সংবাদমাধ্যমকে নির্যাতিতার পরিবারের সাথে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ ঘিরে রেখেছে নির্যাতিতার বাড়ি।
অবশেষে সারা দেশব্যাপী বিক্ষোভের মুখে পড়ে যোগী সরকার সাসপেন্ড করল এসপি , ডিএসপি সহ মোট ৭ জন পুলিশকর্মীকে। জানা গিয়েছে এসপি বিক্রান্ত বেদকে সাসপেন্ড করেছে যোগী সরকার। হাথরাস কান্ডে দ্বায়িত্বে থাকা পুলিশ ইন্সপেক্টর কেও সাসপেন্ড করা হয়েছে। এছাড়াও হাথরাসের দ্বায়িত্বে থাকা সমস্ত পুলিশকর্মীদের নারকো এবং পলিগ্রাফ টেস্ট করা হবে সেই সাথে নারকো টেস্ট করা হবে নির্যাতিতার পরিবারের সকলের। এমনই নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। দেশব্যাপী প্রবল বিক্ষোভের আঁচ লক্ষ্য করে হাথরাস কান্ডে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে যোগী প্রশাসন। সাসপেনশন এর খবর আসতেই সেখানকার পাহারায় থাকা সমস্ত পুলিশকর্মীদের গাড়ি আস্তে আস্তে বেরিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এটাই যে, ডিএম যিনি নির্যাতিতার পরিবারকে হুমকি দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো রকম পদক্ষেপ এখনো নেয়নি যোগী প্রশাসন।