করোনা মহামারীর এই আবহের মধ্যে বহু মানুষের রুজি-রুটির সংস্থান অন্ধকারে পর্যবসিত হয়েছে। অনেকেই কাজ হারিয়ে দুর্দশার চরমসীমায় উপনীত হয়েছেন। বহু মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তার উপরে আগুনে ঘি হয়ে উপস্থিত হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য এবং সবজির আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি। খুচরো এবং পাইকারি বাজারে আলু থেকে শুরু করে, ক্যাপসিকাম, পিঁয়াজ, লঙ্কা, টমেটো সহ অন্যান্য সবজির দাম এতটাই বেড়েছে, যা কিনতে কালঘাম ছুটছে মধ্যবিত্তের। এই পরিস্থিতিতে, সাধারণ মানুষের পাশে এসে দাড়ালো সিপিএম নেতৃত্ব। দক্ষিণ কলকাতায় এর আগেই ক্যান্টিন স্থাপন করেছে সিপিএম। এবার উত্তরে সাধারণ মানুষের জন্য শ্রমজীবী বাজার স্থাপন করল সিপিএম। এই বাজার তারা স্থাপন করেছে কুমোরটুলির সন্নিকটে মদনমোহন তলার কাছে। প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে প্রায় বেলা সাড়ে দশটা পর্যন্ত এই বাজার চালু রাখছে সিপিএম নেতৃত্ব।
নিত্য প্রয়োজনীয় সমস্ত সবজি বলতে গেলে পাওয়া যাচ্ছে এই বাজারে অত্যন্ত সুলভ মূল্যে। বাজার চলতি দামের থেকে অত্যন্ত কম দামের মধ্যে সবজি বিক্রি করা হচ্ছে এই বাজারে।
যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই সবজির আকাশছোঁয়া দামে নাভিশ্বাস উঠছে মধ্যবিত্তের, সেখানে সিপিএমের এই উদ্যোগ সকলের প্রশংসা পেয়েছে।
এমনিতেই খোলাবাজারে ক্যাপসিকাম বিক্রি করা হচ্ছে প্রায় ১৪০ টাকা প্রতি কেজিতে, সেখানে সিপিএমের এই সমাজেরই বাজারে ১ কেজি ক্যাপসিকাম পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬০ টাকায়। চন্দ্রমুখি আলুর খোলা বাজারে দাম ছুঁয়েছে প্রায় ৪০ টাকা প্রতি কেজিতে, সেখানে শ্রমজীবী বাজারে চন্দ্রমুখি আলু পাওয়া যাচ্ছে ৩০ টাকা প্রতি কেজিতে। পিঁয়াজের দাম খোলা বাজারে প্রায় ৬২ থেকে ৬৪ টাকা কেজিপ্রতি, সেখানে এই শ্রমজীবী বাজারে প্রতি কেজি পিঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ টাকা কেজি প্রতিতে।
এছাড়াও এই বাজারে খুবই সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে শসা, পটল, ঝিঙে, লাউ, বরবটি, বেগুন, টমেটো, ঢেঁড়স প্রভৃতি।
এই শ্রমজীবী বাজারের সবজির ন্যায্য মূল্য সকলের উৎসাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই এই বাজারে লোক সমাগম ঘটছে বেশ ভালো রকমই। তবে সিপিএম নেতৃত্ব এই বাজারে সকলকে অনুরোধ জানাচ্ছেন যে, এই কঠিন পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট শারীরিক দূরত্ব মেনে চলতে।