বর্তমানের এই ভয়াবহ আবহে মানুষ ভুলতে বসেছে প্রাত্যহিক জীবনের বিনোদনের আস্বাদ। ভয়াবহ এই মহামারী করোনা ভাইরাস সমাজের বুকে মৃত্যুর এক ভয়াবহ আবহের সূচনা করেছে। সাধারণ মানুষ হয়েছে গৃহবন্দী। অর্থনৈতিক পরিকাঠামো বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রতিটি মানুষ শুধুমাত্র মৃত্যু ভয়ে তটস্থ হয়ে রয়েছে। যেন চারিদিকে এক বিভীষিকাময় পরিবেশ বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ ভুলতে বসেছে হাসি খুশি থাকা, আনন্দে থাকা। তারি মাঝে মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে যে খুব শীঘ্রই আবার অতীতের সেই চেনা পরিচিত চিত্রগুলি ফিরবে সমাজের বুকে। কেন্দ্রীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজ্য প্রশাসন মানুষের জীবনে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে দেওয়ার আপ্রান চেষ্টা করে চলেছে। এই নিরিখে এক দারুন উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন লিগম বা WBTC.
আগামী দূর্গা পুজোর আগেই পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন নিগম, সাধারণ মানুষের জন্য শুরু করতে চলেছে, গঙ্গাবক্ষে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি শহরের মধ্যস্থিত বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলি ঘুরে দেখা। সেইসাথে ভ্রমণকারীরা পাবেন আকর্ষণীয় খাবার-দাবারের আস্বাদ।
পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন নিগম জানিয়েছে, আগামী ১লা অক্টোবর থেকেই এই আকর্ষণীয় ভ্রমণব্যবস্থা শুরু করতে চলেছে তারা। গঙ্গার বুকে লঞ্চের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এই ভ্রমণের আস্বাদ দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন নিগম সূত্রে জানা গিয়েছে যে, আপাতত কলকাতার মিলেনিয়াম পার্ক এর লাগোয়া জেটি থেকে এই প্রমোদ তরণী ছাড়া হবে। সোম থেকে শুক্রবার বিকেল ৪ টে থেকে ৬ টা পর্যন্ত এবং প্রতি সপ্তাহে শনিবার এবং রবিবার দুপুর ১২ টা থেকে দুপুর ২ টো এবং তারপরে বিকাল ৪ টে থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত গঙ্গার বুকে এই প্রমোদ তরণীতে ঘুরে বেরিয়ে সীমাহীন আনন্দের স্পর্শ পেতে পারেন সাধারণ মানুষ।
আরও জানা গিয়েছে যে, এই আকর্ষণীয় ভ্রমণ ব্যবস্থায় সকলের জন্যই থাকবে চা-কফি সহযোগে বিভিন্ন আকর্ষণীয় খাবারের বন্দোবস্ত। সেলফি তোলার বিশেষ জোন থাকবে এই লঞ্চে। এছাড়াও থাকবে সমগ্র যাত্রাপথে রবীন্দ্রসঙ্গীতের দারুন মূর্ছনা।
তবে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির এই ভয়াবহতার কথা মাথায় রেখে, এই ভ্রমন পরিকাঠামো কে সম্পূর্ণভাবে সতর্কতার সাথে পরিচালনা করা হবে। প্রতিটি যাত্রীর মধ্যে নির্দিষ্ট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমগ্র লঞ্চটিতে প্রায় ১৪৫ জন মানুষের স্থান সংকুলান হতে পারবে।
বর্তমানে যেখানে মানুষ, প্রতিটি মুহূর্ত মৃত্যুভয়'কে সঙ্গী করে দিন কাটাচ্ছেন, সেখানে মানুষকে কিছুটা আনন্দের স্পর্শ দেওয়ার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই।